এলডিসি উত্তরণ তিন বছর পেছানো না গেলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধস নামবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিসিআই কার্যালয়ে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি প্রীতি চক্রবর্তীসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিসিআই সভাপতি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা এ মুহূর্তে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে। সরকার ও রাজনীতিবিদরা অর্থনৈতিক চ্যাপ্টারকে গুরুত্ব দিতে ভুলে গেছেন। সরকার অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্যকে গুরুত্ব না দিয়ে শুধু অন্যান্য ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত।’ অর্থনীতির চাকা না ঘুরলে ভবিষ্যতে যারা সরকার গঠন করবে তারা অর্থনীতি সামাল দিতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের বেরিয়ে আসার কথা। এ লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে রফতানি পণ্যে প্রণোদনা হ্রাসে একটি কৌশলগত পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। রফতানিকারকরা বলছেন, এ উদ্যোগে বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিসিআই সভাপতি জানান, গত এক বছরে দেশের ১০০ গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আরো ২০০ কারখানা বন্ধ হওয়ার পথে। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার টিকফা চুক্তির মাধ্যমে জিএসপি সুবিধা পেতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসক্রিপশনে শ্রম আইন বাস্তবায়নে কাজ করছে। অথচ জিএসপি দিলেও সেখানে গার্মেন্ট ও টেক্সটাইলে কখনো ডিউটি ফ্রি অ্যাকসেস পাওয়া যাবে না। তাই আমরা মনে করি, যদি এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পেছানো না যায়, তবে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধস নামবে।’
সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পিরিয়ড তিন বছর পেছানোর দাবি জানান বিসিআই সভাপতি।
আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘আইএমএফের প্রেসক্রিপশনে দেশ চলবে না, অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এখানে গণতান্ত্রিক সরকার ছাড়া স্বস্তি ফিরবে না। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, যত দ্রুত সম্ভব অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যাওয়া উচিত।’
সুদের হার ও ভ্যাট বৃদ্ধি এবং ঋণ শ্রেণীকরণের মেয়াদ ছয় মাস থেকে কমিয়ে তিন মাসে নিয়ে আসার সমালোচনা করেন বিসিআই সভাপতি। তিনি বলেন, ‘যখন উপদেষ্টা ও গভর্নরের পক্ষ থেকে বলা হয়, দাম বাড়বে না, শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, আবার ঋণের সুদ-জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়। এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য শিল্পোদ্যোক্তাদের চিন্তায় ফেলে দেয়। এ অবস্থায় যদি দেশী উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করতে ভয় পান, তাহলে সরাসরি বিদেশী (এফডিআই) বিনিয়োগ কীভাবে আসবে?’